আজঃ বৃহস্পতিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, আরবিঃ ১৫ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, বাংলাঃ ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল, এখন সময় দুপুর ১২:০৩
এইমাত্র পাওয়া

আসামিদের বাঁচাতে এজাহার বদলে ফেলল পুলিশ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌর যুবলীগ নেতা চঞ্চল কুমার সরকার (৪২) হত্যা মামলায় মূল আসামিদের বাঁচাতে এজাহার বদলে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে প্রথম এজাহারে উল্লেখ করা মাহাবুর রহমান বিপ্লবের নাম নতুন এজাহারে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর বিপ্লবের নির্দেশে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবু যুবলীগ নেতা চঞ্চলকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে প্রথম এজাহারে উল্লেখ করা হলেও নতুন এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি মুমিনুল ইসলামের নির্দেশে মাসুদ রানা ছুরিকাঘাত করেছে। আগের এজাহারে থাকা ১৮ জন আসামির স্থলে নতুন এজাহারে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার মাহাবুর রহমান বিপ্লবকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শনিবার দুপুরে তাহেরপুর পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি চঞ্চল সরকারকে দুর্বৃত্তরা তাহেরপুর বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে। ওই দিন বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে চঞ্চল খুনিদের নাম তার ভাই ও স্বজনদের বলে যান। হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা ও নেতৃত্ব দানকারী হিসেবে ওই দিনই পুলিশ গ্রেফতার করে তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুর রহমান বিপ্লবকে। ময়নাতদন্ত করে পরদিন দুপুরে চঞ্চলের লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়। এর পর তার বড় ভাই নির্মল সরকার বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবুকে প্রধান আসামি এবং মাহাবুর রহমান বিপ্লবকে হুকুমদাতা উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এতে ১৮ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, বিপ্লবের নির্দেশে চঞ্চলের পিঠের বামদিকে ছুরিকাঘাত করে আর্ট বাবু। ওই সময় অন্য আসামিরাও তাকে পেটাতে থাকে এবং মারধর করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান।

জানা গেছে, নির্মল সরকারের ওই এজাহারটি পুলিশ মামলা হিসেবে নেয়নি। রোববার রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ আরও একটি এজাহার লিখে নিহত চঞ্চলের বাড়িতে হাজির হয়। সেখানে নতুন এজাহারে নির্মলকে স্বাক্ষর করতে বলেন বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব। কিন্তু নির্মল নতুন এজাহারে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ আরও একটি এজাহার তৈরি করে তাতে চঞ্চলের ছোট ভাই অমল সরকারকে বাদী করে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

নতুন এজাহারে বলা হয়েছে, মুমিনুল ইসলামের নির্দেশে মাসুদ রানা পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে চঞ্চল সরকারকে হত্যা করে। নতুন এজাহারে আসামি করা হয়েছে মাসুদ রানা, মিলন, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবু, আসাদুল ইসলাম, লিমন, আলমগীর হোসেন, জাহিদ হোসেন, নয়ন ও মুমিনুল ইসলামকে। প্রথম এজাহারে থাকা আসামিদের নাম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মাহাবুর রহমান বিপ্লব, কাউছার রহমান, আলতাফ ঘরামী, পিএম গুলবর রহমান, মকছেদ আলী, সুমন শাহ, ইশান ও আব্দুল ওয়াহেদ লালনকে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান আসামি মাহাবুর রহমান বিপ্লবকে তারা গ্রেফতার করেছেন। আর্ট বাবু ও বিপ্লবকে প্রধান আসামি করে নিহত চঞ্চলের ভাই নির্মল সরকার বাদী হয়ে বাগমারা থানায় মোট ১৮ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছিলেন। কিন্তু রাতেই অভিযোগ কেন বদলে গেল- তা জানতে নির্মলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তার ছোট ভাই অমল সরকার বলেন, প্রথম এজাহারটি পুলিশ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। রোববার গভীর রাতে বাড়িতে পুলিশ এসে বলেছে, প্রথম এজাহারে কিছু ভুল হয়েছে। তাই সংশোধন করে নতুন এজাহার করা হয়েছে। সেখানে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সংখ্যালঘু মানুষ। আইন-কানুন এত বুঝি না। পুরো তাহেরপুর এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, প্রথম এজাহারটি নিহতের পরিবারের কেউ থানায় নিয়ে আসেননি। তাই সেটি গ্রহণ করা হয়নি। অমলের এজাহারটি নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার বিপ্লবের নাম এজাহার থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাদী তাকে এজাহারে দেয়নি, তাই পুলিশের কিছু করার ছিল না। রাত আড়াইটায় বাদীর বাড়িতে গিয়ে এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, প্রথমে এজাহারে মাহাবুর রহমান বিপ্লব ও আর্ট বাবুর নাম শত্রুতামূলক দেওয়া হয়েছিল। পরে বাদী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আসামি করা হয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদকে ফোন করা হলে এসআই রাসেল কবীর ফোন ধরে বলেন, ওসি অসুস্থ, কথা বলতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, কয়েকটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি চরমপন্থি নেতা আর্ট বাবু দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। সম্প্রতি সাংসদ এনামুল হককে ফুল দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে এসেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় সে।

Check Also

এমপিদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট খারিজ

আগের সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) নেওয়া শপথের …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।