আজঃ বৃহস্পতিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং, আরবিঃ ১৫ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, বাংলাঃ ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল, এখন সময় দুপুর ১২:০৭
এইমাত্র পাওয়া

সব চমকেই সাফল্য কিন্তু

এই এশিয়া কাপে আগের পাঁচ ম্যাচে যে দলের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি ১৬ রানের, সেই দলই কাল লিটন-মিরাজের জুটিতে দিল ১২০ রানের দুর্দান্ত সূচনা। ভারতের বিপক্ষে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপও।

চেনা পথে গন্তব্যে পৌঁছানো না গেলে ঘুরপথ ধরতে হয়। এই এশিয়া কাপের বাংলাদেশও তাই করেছে। আর একবার যখন ঘুরপথে যাওয়ার জুয়াটা কাজে লেগে গেছে, তখন বারবার টিম ম্যানেজমেন্ট প্রচলিত ধারা ভেঙে বেরিয়েছে নির্ভয়েই।

সুপার ফোরের আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান ম্যাচের ধারাবাহিকতায় ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও তাই প্রথাগত চিন্তার বাইরে যাওয়া চমক নিয়ে হাজির বাংলাদেশ। রহস্য রেখে দিলেও আগের দিন, বিশেষ করে ওপেনিংয়ে অন্য রকম কিছুর ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ওপেনিংয়ে এই আসরে টানা ব্যর্থতার চক্কর থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য সমাধান এ রকম হতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছিলেন তিনি, ‘দেখুন, এ টুর্নামেন্টে তো আমরা নিজেরাই অনেক চমক পেয়েছি। আপনাদেরও যা চমকে দিয়েছে। কালকেও (ফাইনালে) আপনারা এমন কাউকে দেখতে পারেন, যে কখনো ইনিংস ওপেনই করেনি। সব কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আপনাদেরও প্রস্তুত থাকতে হবে।’

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক হাসতে হাসতে ওই কথা বলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় জল্পনাকল্পনা। কে হতে পারেন ওপেনিংয়ে লিটন কুমার দাশের সঙ্গী। এ আসরে ৬ নম্বরে ব্যাটিং করে আসা ইমরুল কায়েসের আবার নিজের চেনা ব্যাটিং পজিশনে ফেরার সম্ভাবনায় হাওয়া দিচ্ছিল দলীয় সূত্রও। কিন্তু ইমরুল-লিটন কম্বিনেশনে তো আর কোনো চমক থাকে না। আবার আসল খবর প্রকাশ্য করে না দিয়েও চমকটা রাখতে চেয়েছে দল।

এমনকি বাংলাদেশ দলের সিংহভাগ সদস্যের জন্যও কখনো কখনো কোনো বিষয় বিস্ময় হয়েই এসেছে। যেমন সাকিব আল হাসানের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়ার পরও অনেককে আগেভাগে ঘুণাক্ষরে জানতে দেওয়া হয়নি যে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচে খেলছেন না এই অলরাউন্ডার। ওই ম্যাচ খেলতে দুবাই থেকে আবুধাবি রওনা হওয়ার আগেই পুরো দলকে ব্যাপারটি জানানো হয়।

ওই ম্যাচেও প্রচলিত চিন্তার বাইরে যাওয়ার ব্যাপার ছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে একজন বোলার কম নিয়ে নামার সাহস দেখায় বাংলাদেশ। ফাইনাল ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে যা করায় ঝুঁকিও ছিল। কিন্তু অনিয়মিত বোলারদের বোলিংয়েও ছিল সেই ঝুঁকিমুক্তির ঘোষণা। তাঁদের অন্যতম সৌম্য সরকারও। দীর্ঘদিন রানে না থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এই আসরে বাংলাদেশের ওপেনিং সংকটের সমাধান হতে না পারলেও প্রয়োজনের সময় তাঁর স্লো মিডিয়াম পেসে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন।

ক্যারিয়ারে বেশির ভাগ সময়ই ‘ঠেকার কাজ’ চালিয়ে আসা মাহমুদ উল্লাহও সেদিন পুরো ১০ ওভার বোলিংয়ে ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে টেনে আনায় রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের জীবন-মরণ ম্যাচে ইমরুলকে ৬ নম্বরে পাঠানোর জুয়াও কাজে লেগে যাওয়াটা অন্য রকম কিছু করে দেখার চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্টকে উৎসাহী করেছে আরো। এ জন্যই ফাইনালের আগের দিন মাশরাফিকে আরেকবার প্রথা ভেঙে বেরোনোর কথা বলতে শোনা গেছে বারবার।

সেই কথামতো চমক ফাইনালেও। লিটনের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো মেহেদী হাসান মিরাজকে। যিনি এর আগে ওপেনই করেননি কখনো। তবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে মিরাজ দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসাই ছিলেন। ২০১৬-র যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে দুর্দান্ত মনে হওয়া ব্যাটসম্যান পরের দুই বছরে কিভাবে ব্যাটিং সামর্থ্যের অনেকটা খুইয়ে বসলেন, তা নিয়ে দলের মধ্যেই বিস্ময় ছিল। তবে গত কিছুদিনে ব্যাটিংয়ে বাড়তি শ্রম দেওয়া মিরাজকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়েই অবশেষে মিলল সমস্যার সমাধান।

এই এশিয়া কাপে আগের পাঁচ ম্যাচে যে দলের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি ১৬ রানের, সেই দলই কাল লিটন-মিরাজের জুটিতে দিল ১২০ রানের দুর্দান্ত সূচনা। ভারতের বিপক্ষে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপও। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ২০১৫-র ভারত সিরিজের প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ১০২ রানের পার্টনারশিপই এত দিন সর্বোচ্চ ছিল। সেই রেকর্ড ভাঙায় এমন একজন যুক্ত হলেন, যিনি কিনা কখনো ওপেনই করেননি।

না করলেও নতুন ভূমিকায় হতাশ করেননি মিরাজ। ২০.৫ ওভারের জুটিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা লিটন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে রূপ দিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরিতেও। এর ঠিক উল্টো ঢঙে ব্যাটিং করা মিরাজ নিশ্চিত করতে চেয়েছেন বড় জুটি। ৩২ রান করে আউট হওয়ার আগে তা নিশ্চিতও করে যাওয়ায় বাংলাদেশ পেয়েছিল সাজানো বাগানও। পরে সেটি তছনছ হলেও লিটন-মিরাজকে দিয়ে ওপেন করিয়ে জুয়া খেলার মহিমা তাতে কমেনি একটুও।

Check Also

সিনিয়রে রেকর্ড গড়তে চাই

মেয়েদের হাই জাম্পে আশা দেখাচ্ছেন জান্নাতুল। বিকেএসপির এই অ্যাথলেট জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের অনূর্ধ্ব-১৭ বছর গ্রুপে রেকর্ড গড়েছিলেন …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।